খবর

Chandannagar Jagadhatri Puja: এই বছর চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পূজায় থাকছে নয়া চমক! চিন্তা কমবে স্থানীয় মানুষের

প্রতি বছর জগদ্ধাত্রী পূজোয় চন্দননগরের আলোর কারসাজি দেখতে হাজির হন নানা প্রান্তের মানুষজন। ভিড় উপচে পড়ে প্রতিটি বারোয়ারী পূজায়।

Advertisements

Chandannagar Jagadhatri Puja 2023:

আলোর শহর বললে চোখের সামনে ভেসে ওঠে হুগলি জেলার চন্দননগরের কথা। এই শহরের আলোর সাজ ও জগদ্ধাত্রী পূজা (Jagadhatri Puja) কলকাতা ও দেশের মাটি ছাড়িয়ে বিদেশেও খ্যাত। প্রতি বছর জগদ্ধাত্রী পূজোয় চন্দননগরের আলোর কারসাজি দেখতে হাজির হন নানা প্রান্তের মানুষজন। ভিড় উপচে পড়ে প্রতিটি বারোয়ারী পূজায়। শুধু তাই নয় চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পূজোর বিসর্জনেও থাকে আলোর চমক। শোভাযাত্রায় আলোর শামিয়ানা দেখতে রাস্তায় ঢল নামে হাজার হাজার লোকের। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে জগদ্ধাত্রী পূজার (Jagadhatri Puja)। সারা শহরকে সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত আলোকশিল্পীরা।

তবে এই আলোর সাজে গোটা শহরকে সাজাতে যে পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন তার জন্য অর্থ লাগতো প্রচুর। এমনকি বিদ্যুতের ঘাটতিপূরণ করার জন্য দশমীর দিন বিদুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হত চন্দননগরে। এইক্ষেত্রেই সুখবর শুনিয়েছে বিদ্যুৎ দফতর।

Advertisements

Jagadhatri Puja

Jagadhatri Puja 2023

এই বছর জগদ্ধাত্রী পূজোয় কমবে বিদ্যুতের খরচ পাশাপাশি বিসর্জনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময়ও অনেকটা কম হবে। চন্দননগর রবীন্দ্র ভবনে জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রশাসনিক বৈঠকে এই কথাই জানানো হয়েছে বিদুৎ দফতরের তরফে। কয়েকদিন আগে চন্দননগরের রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনের যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সেখানে বিদ্যুতের পরিমাণের সঙ্গে পূজার প্রশাসনিক কিছু বিধি অর্থাৎ কী করণীয় এবং কী করনীয় নয় সমস্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়।

Advertisements

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, হুগলি জেলা শাসক মুক্তা আর্য, চন্দননগর পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি, মেয়র চন্দননগর রাম চক্রবর্তী, ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী সহ পুলিশ, বিদ্যুৎ দপ্তর, রেল,স্বাস্থ্য দপ্তর পুরসভার জন প্রতিনিধি ও আধিকারিকরা।

বাজারে ফিরছে ১০০০ টাকার নোট! কি বলছে আরবিআই, জানুন বিস্তারিত

Jagadhatri Puja

এই প্রসঙ্গে বিদুৎ বণ্টন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার কিংকর সিং জানিয়েছেন, এই বছর জগদ্ধাত্রী পুজোয় বিদ্যুৎ এর খরচে কিছুটা সাশ্রয় হবে। গত বছর প্রতিদিন যেখানে প্রতি কিলো ওয়াট বিদুৎ খরচ ছিল ২৭০ টাকা সেখানে এইবার তা ১৮৮ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে বারোয়ারী গুলির বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ কমবে অনেকটাই। চন্দননগরে প্রত্যেক বারোয়ারীতে যে আলোর খেলা দেখা যায় তাতে থাকে বড় বড় গেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের আলোর মডেল।

এমনকি বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও এই সব আলোর শামিয়ানা লক্ষণীয়। যার কারণে বিদ্যুৎ লাগে অনেকটাই বেশি। চলতি বছর বিদ্যুৎ এর দাম কমায় অনেকটাই কমবে বিদ্যুতের খরচ এবং সেই সঙ্গে কমবে রাতে শোভাযাত্রার জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার সময়ও । শোভাযাত্রায় প্রচুর আলোর সাজের জন্য পূর্বে দশমী ও একাদশীর দিন গোটা চন্দননগর শহরের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হতো।

কিঙ্কর সিং আরও জানিয়েছেন, চলতি বছর শোভাযাত্রার রুটে কোনো প্রকার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হবে না। আগে যেসব প্রতিমা দিনে বিসর্জন হবে সেইগুলিকে বের করে গাড়িতে তোলার আগে আড়াই থেকে তিন ঘন্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকতো গোটা শহরের। তবে এইবার প্রতিমা বের করার সময় বিদুৎ বিচ্ছিন্ন হবে এবং প্রতিমা বেরিয়ে গেলে পুনরায় লাইন জুরে দেওয়া হবে। এইবার পূজায় বিদুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার সময় কমবে। চন্দননগরে আন্ডার গ্রাউন্ড কেবলের কাজও চলছে তাই আগামী বছর কোনো সমস্যাও থাকবে না বলে সকলেই আশাবাদী।

কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির চেয়ারম্যান নিমাই দাস জানিয়েছেন, পূর্বে দুদিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকতো। অসুবিধা হলেও মানিয়ে নিতেন সকলেই।বর্তমানে সেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে অনেক। চলতি বছর ৬২ টি বারোয়ারী শোভাযাত্রায় অংশ নেবে, থাকবে ২৩২ টি লরি। সেই শোভাযাত্রায় যাতে কোনো অসুবিধার সৃষ্টি না হয় সেটাই বিদ্যুৎ দফতরকে জানানো হয়েছে।

এরকম আরও প্রতিবেদন পড়তে ফলো করতে পারেন আমাদের  Google News পেজটি

Related Articles